প্রতিভাস: জানুয়ারি ২০২৬

ধারাবাহিক উপন্যাস

যেভাবে বেঁচে থাকি

তাপস সরকার 

ওটা কনিষ্ককান্তির বাড়ি। ছাদে তাকে হাজির দেখা গেল। সে কি একা? তার সঙ্গে একটা হাতিও দেখতে পেলাম। হাতি মানে হাতি, একটা প্রমাণ আকৃতির আসল হাতি। ছাদময় সেই হাতির সঙ্গে হেঁটে বেড়াচ্ছে কনিষ্ককান্তি। ব্যাপারটা অদ্ভুত না স্বাভাবিক ভেবে কোন কূলকিনারা পাচ্ছিলাম না। অত বড় একটা হাতি অত উঁচু বাড়ির ছাদে কী করে গিয়ে হাজির হল? ছাদে ওঠার সিঁড়ি মানুষের জন্য, সেই সিঁড়ি ধরে কি একটা জলজ্যান্ত হাতি লোকের বাড়ির ছাদে উঠে যেতে পারে…….

 

.

শরদিন্দু সাহা

এমন শান্ত ধীর প্রকৃতির জন্যই মানুষগুলো এত উদাসীন, এত নরম, এত সুর এদের গলায়, এত কথা এদের অন্তরে, এত আপ্যায়ন এত আতিথেয়তা এদের দিনযাপনে, কোনো দেশেই তো এমন দেখি নি। এত ভালো মানুষ বলেই কি ব্রিটিশরা এদের এত সহজে কব্জা করেছে। আরে বাপু নিজের সম্পদ নিজে রক্ষা করতে না পারলে তো অন্যরা লুটেপুটে খাবে, এতে আবার আশ্চর্য হওয়ার কী আছে! আসল মুশকিলটা হলো দেশী ইংরেজদের নিয়ে…..


.

ধারাবাহিক রচনা

.

.

আশিস ভৌমিক

দেবতারা ভাবলেন জনশূন্য এই ধরণী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হওয়া দরকার। ফলে দেবতা এনকি এরিদুতে প্রথম মানব হিসেবে সৃষ্টি করলেন আদাপাকে। তার কাজ ছিল নদী থেকে দেবতাদের জন্য মাছ ধরে নিয়ে আসা। নিত্যদিনের মতো মাছ ধরতে গেলে একবার দখিনা হাওয়া তার কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ক্ষোভে বায়ুর ডানা ভেঙে দেন আদাপা। এর ফলে এরিদুর বাসিন্দারা বঞ্চিত হতে থাকে শীতল দখিনা হাওয়া থেকে। এ নিয়ে ‘আদাপার গল্প’ পুরাদস্তুর এক গল্প বর্ণিত আছে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার সৃষ্টিতত্ত্বে….

.

অমিতাভ সরকার

.

.

.

.

.

দীপান্বিতা

বিশ্বকোষ তৈরির সময়কালেই তিনি নিজস্ব মৌলিক রচনাগুলি সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে লা রিলিজিউস, যাতে খ্রিস্টান নানদের মধ্যে কী কুকীর্তি চলে তা দেখানো হয়েছে সুজান নামে একটি মেয়ের নান হওয়ার গল্প দিয়ে। এই বইটিও প্রকাশ পায় লেখকের মৃত্যুর অনেক পরে ১৭৯৬ সালে...

.

প্রীতন্বিতা

কোন ভিনগ্রহের সভ্যতাও ওই প্রযুক্তি অবলম্বন করতে পারে। হয়তো এই কারণেই আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি রেডিও-দূরদর্শন সম্প্রচার থেকে কেবল ও ফাইবার অপটিক্সের দিকে এগিয়ে গেছে। বিকল্প আলোর সাহায্যে ইটিকে দেখার এটাই হতে পারে সবচেয়ে বড় উপায়……

.

তপোপ্রিয়

দূর থেকে দেখি মায়ের বিছানায় বসে প্রীতন্বিতা একমনে গান গাইছে। ছোট ছোট হাতে হারমোনিয়াম আগলাতে প্রাণান্ত। গানের যে সুরটা তার গলায় সেটাই যেভাবে হোক সে হারমোনিয়ামে তুলে নিয়েছে। একটু অবাক লাগল। তার যে প্রশিক্ষক তাকে গান শেখায় সে কেবল প্রাথমিক রেওয়াজ করানো আরম্ভ করেছে। এমন হালকা গান কবে শেখালো…..

.

পথে পথে মোহর ছড়ানো

.

.

.

.

নীলাদ্রি পাল

শীর্ণ শরীরে বাঘের মত ডোরা কাটা দাগ। হলুদ এবং উজ্জ্বল ত্বক। সাদা মুখমন্ডল। মোটা পাকানো গোঁফের দু’দিক দিয়ে লালা ঝরছে অনবরত। তীর, ধনুক, ঢাল, তলোয়ার, বল্লম নিয়ে যুদ্ধ সাজে সজ্জিত লোকদেবতা দক্ষিণ রায়। পায়ে বুট পরিহিত। গায়ে জামা, পরণে ধূতি ও মাথায় মুকুট। কোলে বন্দুক। জামার পিছনে ঝুলছে লম্বা লেজ — জামার লেজ। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিস্তির্ণ অঞ্চল জুড়ে যে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের অস্তিত্ব সে হল চিরপরিচিত সুন্দরবন। সেখানে প্রকৃতি অরণ্য, লবণাক্ত জল, প্রচুর কীটপতঙ্গ, কুমির এবং সর্বোপরি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলের লোকদেবতা হলেন দক্ষিণ রায়….

.

শিশির আজম

এই চলচ্চিত্রে কেবল নীরবতা না, সময় আর শরীরের ভাষায়ও আমরা আক্রান্ত হই। নির্জন একটা ঘরে পড়া, লেখা, শুয়ে থাকা, ফ্লোরে বিছানা পাতা আবার সেটা তুলে দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা আর সেটা এমন জায়গায় যেন বাইরের আলো ঘরে না আসতে পারে। সময়ের তাড়াহুড়ো নেই। মেয়েটা কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখে, দরজা খোলে, বাইরে ঝিরিঝিরি তুষার। এই তুষার ঝরে পড়াটা এই ইঙ্গিত দেয় যে সময় থেমে নেই। এটা ঐ মেয়েটার মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বময়তার দিকে আমাদের মনযোগ আকর্ষণ করে…..

..

.

জল এতটাই বেয়াক্কেলে যে জামাকাপড় ভিজিয়ে দেয়। তাছাড়া জলে ডুবে মরে যাওয়ার ভয় তো রয়েছেই। তাই সে নদী, সমুদ্র, পুকুর ইত্যাদির ধারেকাছেও যায় না। বর্ষাকাল তার দুচোখের বিষ। জল সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়েই তার প্রবল এলার্জি। অন্যদিকে হাওয়াকেও তার তেমন সুবিধের পাত্র বলে মনে হয় না। উল্টোপাল্টা হাওয়ার দাপটে তাকে জীবনে বহুবার নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। বিশেষত ঝড়ের সময়ে। তাছাড়া হাওয়ার চরিত্র সে দেখেছে বিশ্বাসঘাতক টাইপের…..

.

.

বই আলোচনা

.

রবীন্দ্রনাথ, চার্লি চ্যাপলিন, রিচার্ড ফেইনম্যান, মার্ক টোয়েন

সম্পাদক দীপান্বিতা 

কবিতা বিভাগ : রুদ্রশংকর 

সম্পাদনায় সঙ্গে আছেন :

প্রীতন্বিতা, গণেশ পান্ডে, তুষার বরণ হালদার, আশিস ভৌমিক, পাঠক মিত্র, নীলাদ্রি পাল, সৌমিতা রায় চৌধুরী

Visitors

015875
Views Last 30 days : 2859
Total views : 33467